কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না, বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে: মোদি



ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, বাংলাকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না। বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। এ অঞ্চলের উন্নতির জন্য ভারত-বাংলাদেশকে একসঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে। ভারত-বাংলাদেশ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে যাবে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে দশ দিনব্যাপী আয়োজিত ‘মুজিব চিরন্তন’ অনুষ্ঠানের শেষ দিনে শুক্রবার সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


মোদি বলেন, আমাদের উভয় দেশেই গণতন্ত্রের শক্তি রয়েছে, এগিয়ে যাওয়ার সুস্পষ্ট দূরদর্শিতা রয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ অগ্রযাত্রা এ পুরো অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য সমান জরুরি।


ভাষণের সময় নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক মজবুত করতে তরুণদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর তাগিদ দেন। এ সময় ভাষা শহীদ সালাম, রফিক, বরকত, জব্বার, শফিউরকে স্মরণ করেন মোদি। অনুষ্ঠানে গোবিন্দ হালদারের লেখা গান ‘এক সাগর রক্তের বিনিময়ে, বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা, আমরা তোমাদের ভুলব না’ গানটিও বাংলায় উচ্চারণ করেন।


ভারতের প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বাংলাদেশের তরুণদের জন্য ভারতে সুবর্ণজয়ন্তী স্কলারশিপের ঘোষণা দেন। তিনি বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের ভারতে গিয়ে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ভারতে গিয়ে ভারতের ব্যবসায়ীদের শেখাতে এবং শিখে আসার অনুরোধ করেন মোদি।  


বক্তব্যের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে শ্রদ্ধা জানাই, যিনি সোনার বাংলার স্বপ্নের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করেছেন। মোদি তার বক্তব্যে স্মরণ করেন মুক্তিযুদ্ধের সব শহিদদের।


রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশের জনগণকে ভারতের জনগণ ও সরকারের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানান নরেন্দ্র মোদি।


শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টায় মোদি জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠানস্থলে এলে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা তাকে স্বাগত জানান।


এর আগে, এদিন সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে নরেন্দ্র মোদিকে বহনকারী একটি বিমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।


এ সফরে ২৭ মার্চ দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। কয়েকটি সমঝোতা স্মারকের পাশাপাশি কয়েকটি উদ্যোগের উদ্বোধন হবে। 


এর মধ্যে রয়েছে মেহেরপুরে স্বাধীনতা সড়ক, স্বাধীনতা যুদ্ধে নিহত ভারতীয় সৈনিকদের সম্মানে আশুগঞ্জে স্মৃতিসৌধ, কুষ্টিয়ায় কুঠিবাড়ি সংস্কার, একাধিক বর্ডার হাট, বঙ্গবন্ধুর ওপর স্ট্যাম্প ও নিউ জলপাইগুড়ি পর্যন্ত যাত্রীবাহী ট্রেন উদ্বোধন। এছাড়া এ সফরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, স্টাফ কলেজ ও ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের মধ্যে সমঝোতা স্মারক এবং দুটি প্রকল্পের বিষয়ে সমঝোতা স্মারকের সম্ভাবনা রয়েছে।



CNB/INDIA//ROYRL

Post a Comment

Previous Post Next Post